শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে আগেভাগে স্বাস্থ্যপরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে অনেক রোগ শুরুতেই প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচরণের মাধ্যমে মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত হয়। সে লক্ষ্যেই সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বাজেট বাড়ানো নয়, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতেও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষ চিকিৎসকই নয়, সমাজনেতা, গবেষক, শিক্ষক ও মানবসেবায় নিবেদিত অসংখ্য মানুষ গড়ে তুলেছে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার ও পরামর্শ অনেক সময় রোগীর কাছে ওষুধের মতোই কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই চিকিৎসকদের মানুষের বিপদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এনএইচ