তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ওই তিন মাসের বাড়তি অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধ বা সমন্বয় করা হবে।

ফলে অক্টোবর থেকে নতুন হারে বেতন পাওয়া শুরু হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থও পরবর্তীতে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেলের মূল বিষয়গুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রয়োজন হলে প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

কতটা বাড়তে পারে বেতন

সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

কমিশনের প্রস্তাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সচিব কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এর আগে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়েছে সরকার।

বাড়তি অর্থের বড় চাপ

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের সংস্থান। জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

এ কারণে নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বকেয়া যেভাবে পাবেন

নতুন পে স্কেলের গেজেট অক্টোবরের আগে প্রকাশিত হলে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করতে পারেন। তবে এর কার্যকর তারিখ ১ জুলাই হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনও তাদের প্রাপ্য হবে।

গেজেট প্রকাশের পর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করে ওই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া অর্থ এককালীন পরিশোধ করা হতে পারে। আবার চাইলে পরবর্তী মাসগুলোর বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করেও এই অর্থ দেওয়া হতে পারে।

এনএইচ