শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা ও তাদের ভোগান্তি নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র আমরা দেখেছি, যা সত্যিই মর্মান্তিক। একসময় শিক্ষকদের নিজস্ব কষ্টার্জিত অবসরের ভাতার টাকা পেতেও ঘুষ দিতে হতো। সরকারি দপ্তরগুলোতে পদে পদে পোহাতে হতো চরম ভোগান্তি। আজ যেভাবে ডিজিটাল ও আধুনিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে সহজে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, অতীতে এত সহজ প্রক্রিয়া কল্পনাই করা যেত না। শিক্ষকদের আর কোনো টেবিলে টেবিলে ফাইল নিয়ে যেতে হবে না, কোনো ধরনের ভোগান্তি সহ্য করতে হবে না।”
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সর্বক্ষেত্রে চরম লুটপাট চালিয়েছে। তারা লুটপাট চালিয়ে শিক্ষকদের কল্যাণে গঠিত দুটি প্রধান বোর্ডকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। যার ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।”
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, বোর্ডগুলোতে বর্তমানে অবসর ভাতার পর্যাপ্ত ফান্ড বা তহবিল অবশিষ্ট নেই। তবে শিক্ষক সমাজের প্রতি বর্তমান সরকারের গভীর শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থসংস্থান করে এই পাওনা মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজ গঠন ও জাতির মেধা বিকাশে অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “প্রচলিত প্রশাসনিক নিয়মে আপনারা হয়তো শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সমাজের দৃষ্টিতে আপনারা চিরকালই শিক্ষক। জাতি গঠনে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য এবং সমাজে আপনাদের ভূমিকা এখনো সর্বজনগ্রাহ্য।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্থিক কষ্ট লাঘব হবে এবং স্বচ্ছতার সাথে তাদের প্রাপ্য অর্থ হস্তান্তরিত হবে।
এমএম