জাতীয় বন্যপ্রাণী দিবসটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সচেতনতামূলক দিবস। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, প্রাণী আচরণবিদ ও লেখক কলিন পেইজের উদ্যোগে ২০০৫ সালে দিবসটির প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের স্মৃতির সঙ্গেও ৪ সেপ্টেম্বরের এই দিবসের যোগসূত্র তৈরি হয়।

তবে দিবসটির প্রতিষ্ঠাকাল এবং স্টিভ আরউইনের সঙ্গে এর সম্পর্কের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু বন-জঙ্গলে বসবাসকারী প্রাণীদের রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাণী, উদ্ভিদ এবং তাদের আবাসস্থল। কিন্তু বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য, পরিবেশদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের কারণেও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে বহু প্রাণীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। ফলে অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।

বাংলাদেশেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় হাতি, চিত্রা হরিণ, ডলফিন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ দেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করা শুধু প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জাতীয় বন্যপ্রাণী দিবসে তাই প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস