বুধবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন লক্ষ্মীপুর শহর শাখা আয়োজিত প্রান্তিক শ্রমিকদের মধ্যে ঈদুল ফিতরের উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফেডারেশনের শহর সভাপতি অ্যাডভোকেট মিরনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ আর হাফিজ উল্ল্যাহ, সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নূর নবী, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, শহর আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান ও সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ এবং ফেডারেশন জেলা সভাপতি মমিন উল্ল্যাহ পাটোয়ারী প্রমূখ।

রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের শ্রমিক সমাজ আমাদের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম রূপকার। দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবেও তারা পালন করেছেন ঐতিহাসিক ও আপোষহীন ভূমিকা। ফলে দেশ ফ্যাসীবাদ ও স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিক্রান্ত হলেও আমাদের দেশের শ্রমিকরা আজও অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা তাদের নায্য পারিশ্রমিক পান না বরং তাদেরকে নানাভাবে প্রতারিত করা হয়। মূলত, দেশে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠিত না থাকায় শ্রমিকরা তাদের নায্য অধিকার পান না। তাই দেশের শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার বিকল্প নেই।’

তিনি সে কাঙ্খিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদেরকে একদফায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘রমযান মাসের শেষ দশক চলছে। এ দশকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু দেশের প্রান্তির শ্রেণির শ্রমিকরা খুব একটা স্বস্তিত্বে নেই। অথচ হাদিসে রাসূল (সা.)-শ্রমিকদের বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করে তাদেরকে আল্লাহর বন্ধু হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের এ ঘুণেধরা সমাজে তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বরং তারা পদে পদে অপমানিত, অবহেলিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন। পবিত্র ঈদ সমাগত হলেও শ্রমিকদের যথাযথভাবে বেতন ও বোনাস প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তাই দেশের শ্রমিক সমাজের ঈদকে আনন্দঘন করতে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-পরিশোধ করুন।’

এফএইচ