মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিকাল ৫ টায় মিরপুর ১৩, কাফরুল ৪ নং কমিউনিটি সেন্টারে কাফরুল উত্তর জামায়াত আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোজা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেছেন, ‘রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজ হাতে এর যথাযথ প্রতিদান দেব।’ অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আমি নিজেই রোজাদারের হয়ে যাব।’ আরেকটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার আগের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন। রমযান মাসের মর্যাদা সম্পর্কে কালামে হাকিমে বলা হয়েছে, রমযান মাস এমন এক মহিমান্বিত মাস, যে মাসে আল কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হেদায়াত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।

তিনি আরও বলেন, ইসলামই মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান দিয়েছে, যা অন্য কোনো মতবাদে সম্ভব নয়। এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালা দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য জীবনবিধান হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে এক দফায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ কখনো জাতীয়তাবাদ, কখনো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, আবার কখনো সমাজতান্ত্রিক আদর্শে শাসিত হয়েছে। মূলত কুরআন দিয়ে দেশ শাসিত না হওয়ায় দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশকে অপশাসন ও দুঃশাসন মুক্ত করতে হলে দেশের শাসনব্যবস্থাকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় আমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে এমন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, যেখানে শাসকরা আল্লাহকে ভয় করেন। সেই বৈশিষ্ট্যযুক্ত লোক তৈরির জন্যই আল্লাহ আমাদের রমযানের মতো নিয়ামত দিয়েছেন। তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি আগস্ট বিপ্লবের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

থানা আমির রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি হাফেজ আশিকুর রহমানের পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শহিদুল্লাহ, শূরা সদস্য আব্দুল মতিন খান ও আহসান হাবিব, থানা নায়েবে আমির আলাউদ্দিন প্রমুখ।

প্রেসবিজ্ঞপ্তি