মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক স্থানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে সাবেক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনকে প্রধান অতিথি করে একটি পক্ষ কর্মসূচির আয়োজন করে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের নেতৃত্বে এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে সাবেক সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করে অপর পক্ষ সমাবেশের আয়োজন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে কাজী সালাউদ্দিনের ছোট ভাই কাজী নাজিম উদ্দিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সোহাগসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকেরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দুপুর ২টা থেকে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একই সময়ে আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরাও সীতাকুণ্ড পৌরসভা, ভাটিয়ারী, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কাজী সালাউদ্দিন বলেন, আমার সমর্থকেরা সীতাকুণ্ড পৌরসভা মাঠে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, আসলাম চৌধুরী মাঠে না থাকলেও তার সমর্থক নারীরা সেখানে অবস্থান করছেন।
দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত বলেন, আহত তিনজনকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এমএম