গতকাল পর্যন্ত বিষয়টা মোটামুটি ‘ঠিকঠাক’ই ছিল। দলের কঙ্কাল বেরিয়ে আসেনি তখনো, প্রথম ইনিংসে মান বাঁচিয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরি; বাংলাদেশ তোলে ২৬৩ রান, মুখ রক্ষা হয় সেবারের মতো।
জবাব দিতে নামা অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া একাদশকে চেপে ধরেও লিড আদায় করা যায়নি। স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠা উইকেটেও বড় সময় ধরে সুবিধা করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজরা। প্রতিপক্ষের ইনিংস শেষ হয় ৩৫৫ রানে। বাংলাদেশ তখন ৯২ রানে পিছিয়ে।
তখনও এমন বিপর্যয় চোখ রাঙায়নি বাংলাদেশকে। কিছুটা আঁচ মিলছিল দিনের শেষে। ১৯ রানে ২ উইকেট খুইয়ে দ্বিতীয় দিনটা শেষ করেছিল সফরকারীরা।
তৃতীয় দিনের শুরুতে সে অস্বস্তিটা আতঙ্কে রূপ নেবে, কে জানত? ডারউইনে আজ সকালে সেটাই হলো। বাংলাদেশ এক ক্যাম্পবেল থমসনকেই তো জবাব দিতে পারল না! আগের দিন বিকেলে ২ উইকেট নিয়ে শুরুটা তিনি করেছিলেন। আজও তিনি থামেননি। ইনিংস শেষ করেছেন ৮ উইকেট নিয়ে। বেরসিক কোরি রোকিচ্চিওলি ২টা উইকেট দখল করে নিয়েছিলেন, নাহয় ক্যাম্পবেল বোধ হয় পারফেক্ট টেন নিয়েই ইনিংস শেষ করতেন। ৮ উইকেট তিনি নিয়েছেন ১১ ওভারে; স্ট্রাইক রেটটা চোখ কপালে তোলার মতো, ৮.২৫!
বাংলাদেশের স্কোরকার্ড নিয়ে কথা যত কম বলা যায় ততোই ভালো। ২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। এই স্কোয়াডের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ ২ জনের মধ্যে তিনি একজন। এই ইনিংস খেলেই তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বাকিদের রানের সংখ্যাটা যেন টেলিফোন ডিজিট, ৬, ৬, ৫, ২, ৪, ০, ৬, ২, ০, ০। প্রস্তুতি ম্যাচের শেষটা তাই হলো ৫৪ রানে অলআউট হয়ে, ইনিংস ও ৩৮ রানের হারের বোঝা কাঁধে নিয়ে।
এমন কিছুর ইঙ্গিত যে মেলেনি, তা নয়; আগেই মিলেছিল। বাংলাদেশ এই তো কিছু দিন আগেও জিম্বাবুয়ের কাছেও ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরেছি। দুই ইনিংসেই দল অলআউট হয়েছিল ২০০’র কম রানে। এরপর এবার অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু অজিদের ৩ নম্বর দলের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে।
হ্যাঁ তৃতীয় সারির দলই তো! অস্ট্রেলিয়ার লাইন আপটা দেখুন। কি? স্যাম কনস্টাস আর জশ ফিলিপ বাদে কাউকে চিনতে পারছেন? না, পারার কথাও নয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সার্কিটে তারা পরিচিত নাম নন। বুঝুন তাহলে! এই দলের কাছেই সোয়া ২ দিনে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ!
গেল দিন ট্র্যাভিস হেড বলেছিলেন, ‘আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের খুব ভালো খেলতে হবে।’ জিম্বাবুয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির দলের কাছে যে দল ইনিংস ব্যবধানে হারে, তাদের বিপক্ষে সেটা যদি হেডরা নাই করেন তবেই বোধ হয় মঙ্গল! নাকি?
এনএইচ