১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) আয়োজিত ‘আওয়ামী শাসনে গণমাধ্যম ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে কী করেছে? সংবাদপত্রের ওপর কীভাবে জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে? মাহমুদুর রহমানসহ অনেকের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন আমরা দেখেছি। অনেক সাংবাদিকের ওপরও নির্যাতন হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ওপর কীভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন চালানো হয়েছে, আমরা দেখেছি। কীভাবে আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তাও দেখেছি। এগুলো সবই ফ্যাসিজমের অংশ। এটাই তাদের আদর্শ, এটাই তাদের মূলনীতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কলাম লেখক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম।
বিএজের সভাপতি ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও সরদার ফরিদ আহমদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি শাহীন হাসনাত প্রমুখ।
বিএজের সাধারণ সম্পাদক আহমদ মতিউর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ফয়সালের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সিভিল রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক এবিএম রফিকুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ আসফার এবং সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল প্রমুখ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। কোনো সংবাদ প্রচার বা বন্ধ করার নীতি কিংবা মানসিকতা আমাদের নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, সংবাদপত্র সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
এনএইচ