মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে শুনানির আয়োজন করা হয়। ডনের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলেও শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের আবেদন
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। সেই দিনই তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
বর্তমানে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ)-এর ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান আসামি ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার ডনের সশরীরে উপস্থিতিতে এই রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার দীর্ঘ আইনি পটভূমি
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর পর তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানালে আদালত সিআইডিকে সার্বিক তদন্তের নির্দেশ দেন।
তৎকালীন সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ থেকে রিভিশন আবেদন দায়েরের দীর্ঘ পরিক্রমায়, গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটিকে সরাসরি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের সেই আদেশের পর ২১ অক্টোবর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ ১১ জন নামীয় এবং একাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়।
তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক পুনরায় ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২২ জুন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলাটিতে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। ডনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমএম