সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। অভিযোগ, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে তা শেষ হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর একই বছরের ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্য তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) ও সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় আইন অনুযায়ী তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

এস