প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার (১০ আগস্ট) এই আদেশ দেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আবুল কালাম আজাদের আবেদনটি শুনানির জন্য আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ছিল।

১৩ বছর পলাতক থাকার পর সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করা এই আসামিকে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত কারাগারে না থাকার আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ২১ জানুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এক আদেশে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আবুল কালাম আজাদ ‘যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন।’

মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। একটি অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের এই রায়ই ছিল যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত প্রথম মামলার রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠলেও ইসলামিক স্কলার হিসেবেও সুপরিচিতি আছে তার। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা এবং এনটিভিতে তিনি ইসলামি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ইসলামের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়াদি নিয়ে তিনি আলোকপাত করতেন। নব্বইয়ের দশক থেকে এসব অনুষ্ঠান ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।

ফরিদপুরের সালথা-নগরকান্দা এলাকায় তার জন্ম হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশের পট পরিবর্তনের পর তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপরই আবুল কালাম আজাদের দেশে ফেরার খবর আসে।

গত ২১ জানুয়ারি সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হাজির হন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তার আত্মসমর্পণ আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আদালত শুরুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর মৌখিক আদেশ দিলেও পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাজা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগের অবস্থানেই (মুক্ত অবস্থায়) থাকার অনুমতি দেন।

আবুল কালাম আজাদের আইনজীবী মো. মশিউল আলম তখন ট্রাইব্যুনালে বলেন, তার মক্কেলের বয়স এখন ৮০ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে। এই অবস্থায় আপিল চলাকালীন তাকে কারামুক্ত রাখার আবেদন জানানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল তখন আদেশে উল্লেখ করেন, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ এ বিষয়ে কোনো যথাযথ আদেশ দিচ্ছেন, ততক্ষণ আজাদ যে অবস্থায় আছেন সেভাবেই থাকবেন।

এমএম