বুধবার দুপুরে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহার করে এখন কারও কণ্ঠস্বর নকল করা, ছবি পরিবর্তন বা সুপারইম্পোজড করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও এআই প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি ও অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এখন এআই যুগে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এআই ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগামী দিনে এআই যেভাবে মানুষকে নির্দেশনা দেবে এবং তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে, তা গভীরভাবে ভাবার বিষয়। এআই কখনো সঠিক তথ্য দিলেও কখনো বিভ্রান্তিকর পথে পরিচালিত করতে পারে।
বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে। তাই বিচারকদের সবার আগে এআই সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো তথ্য বা উপাদান এআই-নির্ভর কি না, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে আইন পরিবর্তিত হয় এবং বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের গতিপথও নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এআইও বিচারব্যবস্থার সামনে তেমনই একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের জন্য যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এআই নিষিদ্ধ করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। একই সঙ্গে এর অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই একটি কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত অধিকতর যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হবে, সরকার সে পথেই এগিয়ে যেতে চায়।
এস