শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরের হরিপুর বোর্ড ঘর ভোটকেন্দ্রে প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “যারা আজ পদ্মা–তিস্তার পানির হিস্যার আন্দোলন করছে, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে কী করেছে?” প্রশ্ন রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে—একবার নয়, পরপর পাঁচ বছরই। এবার যদি তারা আবার ক্ষমতায় আসে তবে দেশকে সন্ত্রাস–চাঁদাবাজিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী তাদের কর্মকাণ্ডেই তা স্পষ্ট হয়েছে। তারা দেশে শান্তি চায় না; তারা লুটপাট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির রাজনীতি চায়। জনগণ তাদের আর সে সুযোগ দেবে না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে জাতি পাবে এক নতুন বাংলাদেশ—যেখানে কোনো বৈষম্য, প্রতিহিংসা বা রক্তপাত থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাংবিধানিক অধিকারও রক্ষা করা হবে—যা থেকে তারা স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছর বঞ্চিত হয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হবে। নারীর স্বাধীনতার নামে নারী–শিশু নির্যাতন বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলাম যে মর্যাদা, অধিকার ও স্বাধীনতা নারীদের দিয়েছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের রাজনীতি করে না; জামায়াত গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। একটি কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই জামায়াতের অঙ্গীকার। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিলেই জাতিকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেউই দাবি করতে পারবে না যে তারা দুর্নীতি–সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ দিতে পারবে; কারণ তাদের নেতৃত্বই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সন্ত্রাস–চাঁদাবাজির গডফাদার। “যাদের কাছে নিজ দলের নেতাকর্মী নিরাপদ নয়, তাদের কাছে দেশ–জাতি কীভাবে নিরাপদ থাকবে!” তারা নিজেদের কর্মীদের খুন করেছে, লগি–বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করেছে; আরেক দল চাঁদা না পেয়ে মানুষকে পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করেছে—যে দৃশ্য বিশ্বকে কাঁদিয়েছে। এরা ক্ষমতায় এলে অসংখ্য মা সন্তানহারা হবে, হাজারো বোন স্বামীহারা হবে, শিশুরা পিতৃহারা হবে। তাই নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে তাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করতে হবে। বাংলাদেশকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে স্থানীয়দের আহ্বান জানান তিনি।
যুবকদের জন্য নৈতিক ও প্রেরণাধর্মী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যুবকদের হাতে অস্ত্র ও মাদক নয়; তাদের হাতে থাকবে কলম।” নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে তারা জাতির নেতৃত্ব দেবে। বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নারী–পুরুষ সবাইকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা হবে। নির্বাচিত হলে ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ বন্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শহর ও গ্রামকে সমানভাবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশগামীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে অগ্রিম টাকা দিয়ে কেউ প্রতারিত না হয়। বিদেশ যেতে না পারলে সেই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। পদ্মা–মহানন্দা নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করা হবে। ছাত্র–যুব সমাজের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে নতুন বাংলাদেশের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
হরিপুর বোর্ড ঘর সেন্টারের সভাপতি আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জেলা নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোখলেশুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক প্যানেল মেয়র অধ্যাপক আবুল হাসান, পৌর আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।