মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনে ভৈরব পৌঁছান উপদেষ্টা। এরপর সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৌঁছার সময় সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেল উজানভাটি থেকে গাড়িবহর নিয়ে বিশ্বরোডের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রার সময় আশুগঞ্জের সোহাগপুর, সোনারামপুর ও সরাইলের বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়েন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজটে আটকা ছিলেন।

উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত মেরামত কাজ চলছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মহাসড়ক সচল রাখার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। এ সময় সড়কে বালু ও ইট ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে ১৫ ইঞ্চি উঁচু করে গর্ত ভরাট করা হয়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা উপদেষ্টার আগমনের এক মুহূর্তে করা এই তড়িঘড়ি মেরামতকে অপ্রয়োজনীয় ও দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, গত এক বছর ধরে মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ দিয়ে চলাচল করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অস্থায়ী সংস্কারের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি।

২০১৭ সালে একনেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা অনুমোদন করা হয়। ২০২০ সালে ৩টি প্যাকেজ কাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তবে করোনা মহামারি, বালু সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্মাণ কাজ কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও সম্প্রতি এক বছরের জন্য সময় বৃদ্ধি ও ১৬৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

এনএইচ