উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী, থাইংখালী, বালুখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া—এসব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ ছিল প্রবল।
স্থানীয় শিক্ষক কমরুদ্দিন মুকুল বলেন, “রাতে প্রচুর গুলির শব্দ শুনেছি। ওপারে বড় ধরনের সংঘর্ষ চলছে মনে হচ্ছে। এমন শব্দ আগে শোনা যায়নি, সবাই আতঙ্কে আছি।”
স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাখাইনদের নিয়ন্ত্রিত আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ছবিতে দাবি করা হয়েছে যে সংঘর্ষের গুলিতে বাংলাদেশে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন— “মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ১২ নম্বর অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এক রোহিঙ্গা আহত—তাহলে আমরা কি নিরাপদ?”
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনাটি মিয়ানমারের ভেতরে ঘটছে, যা সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। এপারে গুলি আসার সম্ভাবনা নেই।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। বালুখালী বিওপির কাছাকাছি সীমান্তের ওপার থেকে গুলির শব্দ শোনা গেছে, তবে আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।”
রোহিঙ্গা আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, “বাংলাদেশের ভেতরে কোনো গুলি আসেনি। ঘটনাটি ১২ নম্বর ক্যাম্প থেকে অনেক দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি জান্তা সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সীমান্তবর্তী প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল।
এনএইচ