বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর-১৩ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম। তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর থেকে এসআরবি-১৩ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দুই দিনসহ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে ছয়টি মোবাইল টহল দল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল মাঠে থাকবে। নাশকতা ও বিস্ফোরকসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে এবং দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।

নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য চালু করা হয়েছে অপারেশনস কন্ট্রোল রুম। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করা হবে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাংবাদিকদেরও তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি-১৩। নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দলগুলো প্রস্তুত থাকবে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী ও হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন।

গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এরপর আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের ভোটের মধ্য দিয়ে এ আসনের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে

এমএম