স্থানীয় প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পাড়া-মহল্লা ও যেসব স্থানে সনাতনী এবং খেটে খাওয়া মানুষের বসবাস বেশি সেসব এলাকায় শেষ সময়ে টাকার খেলা জমে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রার্থীরা বা তাদের অনুসারী কিছু ব্যক্তি সন্ধ্যার পর গোপনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ অর্থের প্রলোভন দেখাচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট সিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কায় থাকা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "আমরা কোনো ধরনের প্রভাব ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোট দিতে চাই। কিন্তু রাতের আঁধারে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা পরিবেশ নষ্ট করছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা নিজেরাই এখন সচেতন হয়েছি।" জানা গেছে, অনেক পাড়ায় বহিরাগতদের ঢুকতে না দিতে স্থানীয় তরুণ ও সচেতন নাগরিকরা রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করছেন। ভোট কেনাবেচা ও প্রলোভন দেখানোর এমন খবর পাওয়ার পরপরই জেলা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনে টাকার খেলা বা সনাতনীসহ যেকোনো সাধারণ ভোটারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রলোভন দেখানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের পরিচয় নির্বিশেষে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুরো ঠাকুরগাঁও আসনজুড়ে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং রাতে সন্দেহভাজন কাউকে টাকা লেনদেন করতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানা বা জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।