নিহত বিল্লাল হোসাইন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি এ স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন।

নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম জানান, তিনি তার মেয়ে মরিয়মকে বাসার নিকটে বিদ্যালয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখেন তাদের ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় তিনি ডাক চিৎকার করতে থাকেন। এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী রুমা বেগমের ডাক চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় বিল্লাল হোসাইনকে দেখতে পায়।

শিবপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কক্ষের টেবিল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার আগে মো. বিল্লাল হোসাইন কি লিখেছিলেন, সেটি প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্টরা।

একটি সূত্র থেকে জানা যায়, স্কুলে যোগদানের পর স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীগন গ্রুপিং তৈরি করেন এবং নিহত বিল্লাল হোসেনকে এর রোষানলে পড়তে হয়। এই রোষানলে পড়ে থাকায় স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ তার নির্দেশনা ও কথাবার্তা শোনেনি। আর স্কুলের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রিত করাই ছিল এই বিল্লাল হোসেনের মুখ্য দায়িত্ব। এরফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেন এবং শরীরে নানারোগ বাসা বাধে। এসব নিয়েও তিনি অনেকটা দু:সহ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।