স্থানীয়রা জানান, তারা কৃষিনির্ভর নীরিহ পরিবার। কিন্তু হত্যার পর সর্দার, বিশ্বাস ও মুন্সি বংশ একত্র হয়ে মন্ডল বংশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করেছে। পরিবারগুলো বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না, ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, মাঠে চাষাবাদও বন্ধ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর একাধিক হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সোহেল ও সাদ্দাম মন্ডলের বাড়ি লুটপাট করা হয় ও গরু নিয়ে যাওয়া হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর মিলন মন্ডলের কাছে থাকা মরিচ ও হাপি মন্ডলের পান বিক্রির টাকা ছিনতাই করা হয়, ১৮ সেপ্টেম্বর কামাল মন্ডলের জমির ঘাস কেটে নেওয়া হয়, ২৫ সেপ্টেম্বর রমজান মন্ডলের পান ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া ১, ২, ৩ অক্টোবর আরও কয়েকটি বাড়ি লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।

মন্ডল বংশের লোকজন বর্তমানে বাড়িছাড়া। তারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশকে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর শামীম মুসা বলেন, যদি পর্যাপ্ত পুলিশ ঘটনা স্থলে থাকত, তাহলে হত্যাকাণ্ড বা পরবর্তী হামলা রুখা যেত।

বর্তমানে মন্ডল বংশের লোকজন দৌলতপুর সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে তদন্ত, সেনা টহল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লুটপাট-হামলা-খুনের সঠিক বিচার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ বলেন, আমাদের কাছে এই ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। হত্যার পর পুলিশ দীর্ঘদিন ঘটনাস্থলে ছিল এবং এখনও রাতভর টহল দিচ্ছে। যদি কোনো ঘটনা ঘটে, আমরা অবশ্যই জানতাম। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এনএইচ