জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারখানার মূল ফটকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জসিম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক নয়নসহ ৪–৫ জনের ওপর হামলা চালায় বহিরাগতরা। আহতদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বেল্লাল হোসেন বলেন, “সম্প্রতি শ্রমিক ইউনিয়নের নিবন্ধন পেয়েছি, যা মালিকপক্ষ মেনে নিতে পারছেন না। এজন্য তারা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলায় ৪–৫ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। যতক্ষণ না সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।”
আরেক আন্দোলনকারী সোহাগ বলেন, “আমরা ৭–৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করেছি। তারা হামলাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং একসঙ্গে খেত। সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্তি দেওয়া হবে না।”
অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের একজন ইকবাল হোসেন জানান, “শিফট পরিবর্তনের পর রাতে আমাদের ডিউটি শুরু হয়। গেটের বাইরে শ্রমিকদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। এরপর থেকেই আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।”
আরেক কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা শুধু নিয়মিত ডিউটি পালন করতে এসেছি। তারপর থেকে আটকে রাখা হয়েছে।”
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেডের শ্রমিকরা বর্তমানে দুটি ভাগে বিভক্ত। সম্প্রতি একটি পক্ষ শ্রমিক ইউনিয়নের সনদ পাওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এক পক্ষ কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। একটি পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেবে। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেড হলো ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মার এর একটি সংস্থা।
এনএইচ