রোববার (৫ অক্টোবর) ভোর থেকে কালজানি নদী হয়ে দুধকুমার ও চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে এসব কাঠ ভেসে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষ নৌকা, বাঁশের ভেলা ও সাঁতার কেটে কাঠ ধরার প্রতিযোগিতায় নামে। অনেকেই কাঠ সংগ্রহ করে তীরে তুলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি শুরু করেন।
এই কাঠের গুঁড়িগুলোর দাম ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি। নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে একটি বড় লালচে গুঁড়ির দাম চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তবে ১ লাখ ২০ হাজারে বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন মালিক।
রায়গঞ্জের দামাল গ্রামের আব্দুল মোতালেব (৬০) বলেন, আমরা চারজন মিলে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা একটি লালচে কাঠ তুলেছি। দেখতে একদম চন্দন কাঠের মতো। দাম চেয়েছি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তবে ১ লাখ ২০ হাজারে বিক্রি করব।
অনেকে কাঠগুলো জ্বালানি হিসেবেও কিনছেন। কালজানি নদীর পাড়ের বাসিন্দা আজাদ হোসেন (৫৫) বলেন, আমার খড়ির গোলা আছে। একেকটা কাঠের গুঁড়ি ১২ হাজার টাকায় কিনেছি। কেটে বিক্রি করব জ্বালানি কাঠ হিসেবে।
ছিটমাইলানী গ্রামের সবুজ মিয়া (৬২) জানান, রোববার রাত থেকে পরিবার নিয়ে প্রায় ৫০০ মণ কাঠ তুলেছি। কিছু রাখব রান্নার জন্য, বাকিটা বিক্রি করব।
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠগুলো পরীক্ষা করেছি। এগুলো দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে রঙ পরিবর্তিত হয়ে লালচে হয়েছে। প্রকৃত চন্দন কাঠ নয়। বেশিরভাগই পচা কাঠ। ভারত থেকে বনাঞ্চল পরিষ্কার করতে ফেলে দেওয়া কাঠ নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে। মানুষ ভুলবশত চন্দন ভেবে কিনছে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, সব কাঠেই ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ থাকে। কাঠ দীর্ঘদিন পানিতে ভেজা থাকলে এই যৌগগুলো অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জারণের মাধ্যমে লালচে বা বাদামি রঙ ধারণ করে। তাই সাধারণ কাঠও চন্দনের মতো দেখতে হয়, কিন্তু প্রকৃত চন্দন কাঠ নয়।
তিনি আরও বলেন, চন্দন কাঠের একটি স্বতন্ত্র গন্ধ থাকে, যা শুকনো কাঠ কেটে ঘষলে বোঝা যায়। এসব কাঠে কোনো গন্ধ বা তেলীয় উপাদান নেই, যা প্রমাণ করে এগুলো সাধারণ কাঠ।
এনএইচ