এ সময় বাজারের দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায়। এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন নেতৃত্ব দেয়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় অধিপত্য নিয়ে ওই তিনটি গ্রামের লোকদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকদের আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। তবে এবার সংঘর্ষটি কী কারণে শুরু হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছে, ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবার কেউ বলছেন, ঈদের সময় (চাঁদ রাতে) মনসুরাবাদ বাজারে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন খাপুরা গ্রামের মালিকানাধীন একটি দোকানের সামনে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তি মনসুরাবাদ বাজারে এলে তাকে মারধর করা হয়। এর জেরে গতকাল ও তার ধারাবাহিকতায় আজকের সংঘর্ষ চলছে।
আরও জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ও সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজারে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় চার গ্রামের মানুষ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট) সংঘর্ষ চলছিল। ভাঙ্গা থানার পুলিশ দুটি গাড়ি ভর্তি করে সংঘর্ষ থামাতে এসে সংঘর্ষকারীদের হামলার শিকার হয়। সংঘর্ষকারীরা তাদের দিকে ইট ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করতে দেখা যায়। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, গ্রামবাসীসহ ৫০ জনের অধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এই মুহূর্তে তার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাঁচজনকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৫০ জনের অধিক আহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে সংঘর্ষ মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় থাকলেও তা পরবর্তীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে এর কারণে ওই পথে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে পাশের তিন গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। খাপুরা, সিঙ্গারিয়া ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতের সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ছামছুল আজম বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আমি ডিবি ও সাধারণ পুলিশের দুটি দল নিয়ে মনসুরাবাদ এলাকার দিকে রওনা দিয়েছি। সংঘর্ষ থামাতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, সংঘর্ষ চলছে, আমরা আমাদের জায়গা থেকে থামাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এস