শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘোড়াশাল পৌরসভার চরপাড়া রওশন জেনারেল হাসপাতাল ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মামলা তুলে না নিলে বাদী মিয়া মোহাম্মদ সজিবকে মহিউদ্দিন চিশতিয়া হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। মহিউদ্দিন চিশতিয়া ওইদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সভা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সভায় মহিউদ্দিন চিশতিয়া বলেন, ড. আবদুল মঈন খান স্যারের আদর্শে রাজনীতি করার অর্থ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমি বিন্দুমাত্র ভয় পাই না। অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস নেই।

তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। আমার নামে কেন, কী কারণে এবং কে মামলা করেছে, তা আমার জানা নেই। আমি আগামীতে ঘোড়াশাল পৌরসভায় নির্বাচন করব। তাই মাদকের বিরুদ্ধে পৌরসভায় কাজ করছি।

স্থানীয়রা জানান, মামলা হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না হয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া বিশাল জনসভার আয়োজক ও প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। সভায় তিনি অনুসারীদের নিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তার সমর্থকেরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার নানা স্লোগান দেন।

সভায় জনসমাগম ও মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুতর মামলার প্রধান আসামি হয়েও তার প্রকাশ্যে জনসভায় অংশ নেওয়া ও নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে ভয়ে এ বিষয়ে স্থানীয়দের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন।

মামলার বাদী ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সজিব ভুইয়া অভিযোগ করেন, অপহরণ, হামলা ও ব্যবসায়ীর কানে কামড় দেওয়ার মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় উল্টো মামলা তুলে নিতে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, প্রধান আসামি মহিউদ্দিন চিশতিয়া ও তার অনুসারীরা এ হুমকি দিচ্ছেন।

সজিব ভুইয়া আরও বলেন, মহিউদ্দিন চিশতিয়া মাদকমুক্ত পৌরসভা ঘোষণা করবেন কীভাবে? তিনি নিজেই সন্ত্রাসী এবং ঘোড়াশালে মাদকের জনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খোঁজ নিলে তার বিরুদ্ধে আগে কতটি মামলা ছিল এবং সেগুলো কী ধরনের মামলা, তা জানা যাবে।’

জনসভা ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন চিশতিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে থেকে বালু ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে একদল লোক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া ওই ব্যবসায়ীর কানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার কানে সেলাইসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পলাশ থানায় মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক অংশীদার ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সজিব ভুইয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এমএম