‎মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকালে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামের একটি পুকুরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এতে অভিযুক্ত যুবলীগ কর্মী সুমন মিয়ার বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে ৫টি হাসুয়া ও একটি বেকি উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী সুমন মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে আটক করা করে।

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সামছুল হক হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ এক নারীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

‎এর আগে, সোমবার (৯ জুন) বিকালে নিহতের স্ত্রী মোছা. লিপি বেগম বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

‎নিহত ইলিয়াস মিয়া উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র খানাবাড়ি গ্রামের মৃত আবদুল ব্যাপারীর ছেলে। তিনি সর্বানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রবাসী মো. তারাজুল ইসলামের সঙ্গে ইলিয়াস মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা চলছিল। প্রবাসে থেকেই তারাজুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে ইলিয়াস মিয়াকে হত্যার ছক কষেন এবং মামলার প্রধান আসামি সুমন মিয়াকে অর্থ ও পরামর্শ দেন তিনি।

‎গত শুক্রবার (৬ জুন) রাত ১১টার দিকে ইলিয়াস মিয়া তার মৎস্য খামার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জামগাছতলায় পৌঁছালে সুমন মিয়া ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা, রড ও বেকি দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রাতেই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

‎এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার প্রধান আসামি সুমন মিয়া একই গ্রামের মজিবর রহমান সর্দারের ছেলে। মামলার অন্যান্য আসামিরা যুবলীগের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

‎সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, শনিবার বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইলিয়াস মিয়া মারা যান। তার স্ত্রী সোমবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এইচআর