শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম।

নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে।

ওসি মাহবুব বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ‘আল ফালাহ’ নামে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করেন।

নিহতের বাবা ইউনুছ মিয়ার অভিযোগ, “মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের কথা বলে স্থানীয় একদল লোক জিসানকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে পরিবারের কাছে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জিসানের মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় ভাঙচুর চালিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কাওছার আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি সবাইকে যার যা আছে তা নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানান। প্রশাসনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তিনি দাবি করেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে মামলা-হামলার কোনো ভয় থাকবে না এবং কেউ তাঁদের কিছু করতে পারবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিলো। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।’

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এস