দেশের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে রণজিৎ দাশই ছিলেন এই মুহূর্তে দীর্ঘজীবী। মাঠের পর জীবনের সুদীর্ঘ লড়াই শেষ করলেন আজ। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। লিখে ভাব প্রদান করলে তিনি উত্তর দিতেন সাবলীলভাবে। মুখের সাবলীলতাও খানিকটা কমে আসে সাম্প্রতিক সময়ে। গত বছর ২৫ এপ্রিল তার বাসভবনে ‘ক্রীড়াঙ্গনে ফেলে আসা দিনগুলো’ গ্রন্থ উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকে।
সিলেটে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রণজিৎ দাশের। সিলেট জেলা দলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৫৫ সালে ইস্পাহানি ক্লাবের হয়ে ঢাকা শীর্ষ লিগে খেলেন। আজাদ স্পোর্টিং ঢাকা ফুটবল লিগে একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৫৮ সালে সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন রণজিৎ দাশ। মোহামেডানে অল্প সময় খেললেও সেখানেও ছিল সফলতা। লিগের পাশাপাশি আগাখান গোল্ডকাপও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। আজাদেই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। খেলা ছাড়ার পরও আজাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানাভাবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সান্টু, মহসিন, আমিনুলকে সেরা বলা হয়। স্বাধীনতার আগে পঞ্চাশ-ষাটের দশকে রণজিৎ দাশ পুর্ব পাকিস্তানে এককভাবে ছিলেন এক নম্বর গোলরক্ষক। নানা বৈষম্যের মধ্যেও পাকিস্তান দলে ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন কয়েকবার। যদিও খেলা হয়নি। সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও গোলাম সারওয়ার টিপু রণজিৎ দাশের কিপিংয়ে বরাবরই মুগ্ধতা নিয়ে নানা আড্ডায় বলেন, ‘৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে রণজিৎ দা অসাধারণভাবে কিপিং করতেন। গোলকিপিং যে শৈল্পিক হতে পারে, সেটা দাদার কিপিং যারা দেখেছে তারা বলতে পারবে।’
ফুটবলের পাশাপাশি হকিও খেলতেন রণজিৎ দাশ। হকিতেও তিনি পূর্ব পাকিস্তান দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারসহ নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
এমএম