তিনি গত ১৬ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরিত পত্রে বলেন, রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন বাজারে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রামকে ১ মণ হিসেবে গণ্য করে কৃষিপণ্য (পেঁয়াজ) বিক্রয়ের অনিয়ম বন্ধ করা প্রয়োজন। রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন বাজারের পেঁয়াজসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী ১ মণ ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রামকে ১ মণ হিসেবে গণ্য করে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এ অনিয়মের কারণে কৃষকগণ নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তাগণও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকারর নির্ধারিত ওজন ও পরিমাণ নীতিমালারও ব্যত্যয় ঘটছে।

বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রাজবাড়ী জেলার সংশ্লিষ্ট বাজারসমূহে সঠিক ওজন পদ্ধতি ১ মণ ৪০ কেজি নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদারকরণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উপ-সচিব), উপপরিচালক (গবেষণা শাখা), উপপরিচালক (বাজার সংযোগ শাখা)।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ৪২ বা সাড়ে ৪২ কেজিতে বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রয়ে কৃষকদের বাধ্য হওয়ার অভিযোগ ও কষ্টের কথা শুনে আমরা এ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। গত ১৬ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ৪২ বা সাড়ে ৪২ কেজিতে বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রয়ে বাধ্য হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে মহাপরিচালক বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন উপসচিবকে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। আশা করা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে খুব দ্রুত আমরা একটা সমাধান পাব। সকলকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করা হল।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, পত্র প্রেরণের পর কমিটি করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই একটি ভালো সিদ্ধান্ত পাব।

রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর রশীদ বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ৪২ কেজিতে মণ কাঁচামাল নেওয়ার অভিযোগটি পাওয়ার পর প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রুতই কৃষক এ হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাবে বলে আশা রাখি।

এমএম