জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৩৬ নম্বর মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. নুরুল ইসলাম ভোট গ্রহণের শুরুতেই রেজাল্ট শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর নিতে শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতেই বিতর্কিত ওই স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিটটি ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নতুন রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে জানা গেছে।

1-20260409125507

তবে সংবাদ সম্মেলনে আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, শুধু মালতীনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসাররা আগে ভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রেখেছেন।

ভোট শেষ না হতেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষরের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বিশেষ একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন। একটি বিশেষ দলকে জেতানোর জন্য প্রশাসনকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

জামায়াত প্রার্থীর দাবি, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ।

কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা পাতানো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এসব অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবিদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন তিনি।

এমএম