আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বলেন, 'হাদির অবস্থা ক্রিটিক্যাল। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। মাথার ভেতরেই বুলেটটি রয়েছে। যা যা ব্যবস্থা করার আমরা করছি।'
বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, 'ওসমান হাদীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হচ্ছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।'
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, 'দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বক্স কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ারের সামনে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি মোটরসাইকেলে করে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।'
ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, 'বিজয়নগর পানির ট্যাংকির দিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনেছি। তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।'
তবে তার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এসময় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। ইতিমধ্যে, ঢাকা মেডিকেলে নিরাপতটা বাড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।
ওসমান হাদির সতীর্থরা ঢাকা মেডিকেলে 'বি নেগেটিভ' রক্ত খুঁজছেন। তারা বলছেন, চিকিৎসকেরা রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন।
জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাদি ফেসবুকে লেখেন, 'যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।'
এদিকে, এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
আহত ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নিজেদের অভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম বলে দাবি করে এই মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় লেখা রয়েছে, 'সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণই' তাদের লক্ষ্য।
এমএম