এ আদেশের ফলে এ্যানি ও সালামের মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আজ বিএনপির এ দুই নেতার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, মো. সগীর হোসেন লিওন, জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. আক্তারুজ্জামান, সৈয়দ ইজাজ কবির, কে আর খান পাঠান প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল তামান্না ফেরদৌস। শুনানির সময় আবদুস সালামের স্ত্রী সৈয়দা ফাতেমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনপির এই দুই নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তাদের সঙ্গে অন্য আসামিরা জামিন পেয়েছেন। গত সোমবার এ মামলায় ছয়জন আসামি নিম্নআদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশের ওপর ‘নো অর্ডার’ দেন।
গতকাল সোমবার (১৬ জানুয়ারি) হাইকোটের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ্যানি ও সালামকে ছয়মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে তাদের কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া ছয়মাসের জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। এরপর ৯ জানুয়ারি আটক হওয়ার ৩২ দিন পর কারামুক্ত হন তারা।
গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
৮ ডিসেম্বর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে বিএনপির এই নেতাকর্মীরা কারাগারে রয়েছেন। তবে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্যাহ আমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এমআই





