চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকায় নিখোঁজের প্রায় আট দিন পর বস্তাবন্দী শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ বুধবার (২৯ মার্চ) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন ভোরে ওই থানার পুকুরপাড়া মুরগীর ফার্ম এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম আবিদা সুলতানা আঁখি (১০)। তিনি নগরীর পাহাড়তলী থানার কাজীর দিঘি এলাকার আব্দুল হাদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা-মা গার্মেন্টস কর্মী।

জানা গেছে, গত ২১ মার্চ বিড়ালছানা আনতে গিয়ে আঁখি নিখোঁজ হয়। পরে এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় জিডি করেন। থানা-পুলিশ মামলা না নেওয়ায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে মামলা করেন। এতে শিশুটির বাসার পাশের সবজি বিক্রেতাকে আসামি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে বিড়ালের বাচ্চা পোষার বায়না ধরে আঁখি। একটি বাচ্চা এনে দিতে বলে মাকেও। পাশাপাশি নিজেও খুঁজতে থাকে। নিখোঁজের আগের দিন এলাকার সবজি বিক্রেতা রুবেলের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। স্বজনদের সন্দেহ রুবেলই বিড়ালের বাচ্চা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছে আঁখিকে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, আঁখি নিখোঁজের পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে একজনকে আটক করে। পরে তার দেখানো মতে ওই এলাকায় লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে রুবেল। এ সময় চিৎকার করায় শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশটি বস্তাবন্দী পর সবজির ঝুড়িতে করে একই দিন রাতেই পুকুরপাড়া মুরগীর ফার্ম এলাকায় ফেলে দেয়। তবে এ ঘটনার পর দাঁড়ি কেটে বেশ পরিবর্তন করলেও এলাকায় থেকে সবজি বিক্রি করে যাচ্ছিলেন রুবেল। তার আচরণে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় রহস্য উন্মোচনে সময় লেগেছে।

এবিএস