নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালের একটি অংশ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ৩০ মে প্রায় সাড়ে ১২টায় ১২ থেকে ১৪ জনের একটি ডাকাত দল দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লালপুর উপজেলার শ্রীরামগাড়ী গ্রামে অবস্থিত সাজিদ জুট মিলসে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রতিষ্ঠানের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের মারধর করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে।

এরপর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তারা মিলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, তামার তারসহ প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা এ সময় ধারালো ছুরি, চাপাতি, লোহার রড ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুণ্ঠিত মাল সরিয়ে নেয়।

ঘটনার পর জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে নাটোর জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে ডিবি নাটোরের একটি বিশেষ টিম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে পাবনা সদর থানার বড় বাজার এলাকা থেকে লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার এবং ডাকাতিতে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)। তাদের সবার বাড়ি পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

পুলিশের উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত দলের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।