এ সময় জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে কড়া পুলিশি প্রহরায় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। ইলিয়াস আলী গুম ও খুনের সময় তিনি র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে ইমরুল কায়েস বলেন, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে এক বছর তিন থেকে চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি লক্ষ্য করেন, বিভিন্নভাবে মানুষকে গুম করা হতো। র‌্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আনা ব্যক্তিদের গুলি ও ইনজেকশনের মাধ্যমে হত্যা করা হতো। আগের বর্ণিত ঘটনার বাইরে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কখনো টিএফআই সেলের ভেতরে, আবার কখনো গাড়িতে এসব ইনজেকশন প্রয়োগ করা হতো।

জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, দেশের জন্য শপথ নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেখেছেন, ওই সময়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করা হয়েছে। বিবেকের তাড়না ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন এবং কোনো সৈনিক যেন তার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেই কামনা করেন।

এমএম