এর আগে গত ৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহম্মদ তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশ পাওয়ার পরও তিনি পদে থাকার জন্য বিভিন্ন মহলে লবিং শুরু করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। তাতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ওবায়েদ উল্লাহ, যিনি এর আগে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের সুপারিশও ছিল।

চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে ১৫ জুলাই, যখন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) ওবায়েদ উল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করে। পরদিন ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকে বিশেষ অভিযান চালায় সংস্থাটি।

অভিযানে তার বিভিন্ন সুবিধাভোগ, বিদেশ সফর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জানা যায়, তিনি সম্প্রতি এক মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান, কিন্তু সেই সফর নিয়ে পরিচালনা পর্ষদকে আনুষ্ঠানিক কিছু জানাননি। কেবল মৌখিকভাবে বলেছেন, তিনি একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে ক্রেডিট লাইন সংক্রান্ত বৈঠকে যাচ্ছেন—যা নিয়মত কাঠামোর মধ্যে পড়ে না।

এ অবস্থায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে অবশেষে তাকে সরে দাঁড়াতে হলো।

চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানকে বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে।

ওবায়েদ উল্লাহর পদত্যাগ ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএইচ