সংবাদ সম্মেলন থেকে পরদিন বুধবার (১০ জুলাই) সারাদেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তবে ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, যারা আপিল করেছেন, তারা এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেউ নয়।
এর আগে, সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ৭ জুলাই থেকে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। ৮ জুলাই (মঙ্গলবার) তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ বন্ধ রেখে ‘গণসংযোগ’ কর্মসূচি পালন করেন। এদিন আন্দোলনকারী সমন্বয়করা দেশের বিভিন্ন জায়গার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনলাইনে গণসংযোগ চালান।
আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে
কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নানা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ৯ জুলাই কোটা আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের দমন করতে নির্দেশনা দেন তিনি।
একই দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘কোটা ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার নেই; এই ইস্যু এখন সর্বোচ্চ আদালতের কাছে। রাজপথে আন্দোলন করে এটার নিরসন হবে না।’
সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন
কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ৯ জুলাই দুপুরে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের শহীদ মিনারে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়ক আধা ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণসংযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ও দুপুর ১২টার দিকে ৫টি ছাত্রী আবাসিক হলে গণসংযোগ চালান তারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনে রেললাইন অবরোধ করেন। এতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
এ ছাড়াও, ৯ জুলাই বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে একাডেমিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে স্লোগান দেন তারা।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার দিকে কলেজ গেটের সামনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
একই দিনে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এনএইচ