বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগামী দুই বছর আমাদের জন্য কঠিন হবে। একটি নাজুক অবস্থা থেকে বের হতে গেলে আমাদের অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেগুলো হয়তো জননন্দিত বা জনপ্রিয় নাও হতে পারে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান ক্যাপ্টেন ও নেতৃত্বের ভিশন ঠিক আছে এবং সততার সঙ্গে কাজ করলে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
দেশের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। যখন কোনো দেশের খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তখন অর্থনীতির গতি কার্যত থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৫ সালের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।
বিএনপি নেতাদের ঋণ খেলাপি হওয়া এবং পুনঃতফসিলিকরণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ একটি বিশ্বজনীন ব্যাংকিং প্রক্রিয়া। এটি কোনো নতুন আবিষ্কার নয়।”
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, “দীর্ঘ এই সময়ে বিএনপির ব্যবসায়ীদের পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। লোন স্যাংশন হয়েও টাকা দেওয়া হয়নি, ঋণের সময় বাড়ানো হয়নি। এমনকি গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে। জেল-জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে বাড়িছাড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষে জেলে বসে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না। এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, অনেক দলের ব্যাংক থাকলেও বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই।”
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহযোগিতা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশকে লো-লেভেল ইকুইলিব্রিয়াম থেকে তুলে আনতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি দেশের স্বার্থে প্রয়োজন।”
এমএম