বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুনানির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান চায় ঢাকা। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য ইউএসটিআরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নিযুক্ত একটি গবেষক দল বাংলাদেশ সফর করে। তারা জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামাল বাংলাদেশ আমদানি করে কিনা, তা সরেজমিন যাচাই করেন। এর আগে একই ইস্যুতে ইউএসটিআরের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এসব আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো কাঁচামাল বা পণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩০৭-এর আওতায় উত্থাপিত অভিযোগ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করে ইউএসটিআর। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও বেসরকারি খাত নিজেদের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার সরাসরি শুনানিতে অংশ না নিয়ে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের পাঠাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও অংশ নিচ্ছে না।
গত মার্চে ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১ এর অধীনে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এসব দেশের বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্ববাজারে এমন কোনো অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করছে কি না, যা মার্কিন উৎপাদন খাতের ক্ষতি করতে পারে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
ইউএসটিআর জানায়, তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না, সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলত তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট খাতের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন মূলত তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিনিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বাজারে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চলতি বছর তা কমে ১৯ শতাংশে আসে। যদিও ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।
এমএম