ফলে অক্টোবর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ওই মূল্যহার অক্টোবর ২০২৬ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর থেকেও কার্যকর থাকবে
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ওই দিন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।
ওই সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও সরকার জনস্বার্থে দেশে দাম বাড়ায়নি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখা এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প ছিল না বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়।
মূল্যস্ফীতির চাপ
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কতটা সুযোগ রাখা হবে, সেটিই নতুন মুদ্রানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বর্তমান অবস্থানে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের সম্ভাব্য প্রণোদনা কর্মসূচি, বিভিন্ন খাতে তারল্য সহায়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের একটি কমিটিতেও বছরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব এসেছে। অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মুদ্রানীতিকে দ্রুত সমন্বয় করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলে মূল্যস্ফীতি, ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও তারল্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।
এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসন্ন অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সেই লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় দেড় শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
এ অবস্থায় আগামী তিন মাসের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমএম











