এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, দেশের তৈরি পোশাকের এই বিশাল রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তথা টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের জোরালো সমর্থন অপরিহার্য।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ‘ক্রিস্টাল প্যালেস’ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঐক্যের ডাক দেন বিজিএমইএ সভাপতি।
তিনি বলেন, কেবল রপ্তানি বাড়ানোই শেষ কথা নয়, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্রিয় সমর্থন নিয়ে অন্তত ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন (ভ্যালু এডিশন) নিশ্চিত করাই এখন শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিআইটিএমএ) নামে একটি আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজন করার লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ নিতে আজ বিজিএমইএ ও বিটিএমএ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, 'ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল'- এই নীতিকে ধারণ করে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ এখন থেকে দেশের এবং অর্থনীতির স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। প্রতিদ্বন্দী দেশগুলো নানাভাবে দেশীয় শিল্পে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করলেও সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে গত দুই মাস ধরে আব্দুল মতিন চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সংগঠন মিলে বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)’ সংস্কারে সাফল্যের সাথে কাজ করছে।
মূল্য সংযোজন ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে চাই। কিন্তু সেখানে যদি ভ্যালু এডিশন মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার হয়, তবে সেই রপ্তানি আমাদের কাম্য নয়। আমাদের লক্ষ্য অন্তত ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে স্পিনিং এবং টেক্সটাইল খাতের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের জোরালো সমর্থনকে অপরিহার্য।
ব্যবসায়িক খরচ ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নতুন পরিকল্পনা আসন্ন আন্তর্জাতিক মেলাটি শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশে মেশিন বিক্রি করতে চায়, তাদের দেশেই টেক্সটাইল ‘স্পেয়ার পার্টস’ বা খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য উৎসাহিত করা হবে। বর্তমানে মূল যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক থাকলেও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৪৫ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ কর দিতে হয়, যা ব্যবসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘যৌথ সালিশি সেল’ সুতার দামের ওঠানামার কারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে পিআই বাতিল বা এলসি না খোলার মতো যেসব অমীমাংসিত সমস্যা তৈরি হয়, তা নিরসনে একটি ‘যৌথ সালিশি সেল' গঠনের প্রস্তাব দেন বিজিএমইএ সভাপতি। এটি পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং চুক্তির মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে যৌথ কার্যক্রমের সফল উদাহরণ হিসেবে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ'র মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুই লক্ষ স্কুল ড্রেস সরবরাহের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বিজিএমইএ ও বিটিএমএ'র এই সম্মিলিত পথচলা নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আমরা যদি একসাথে কাজ করতে না পারি, তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকেই দুই অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বয় করে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি ও উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রদর্শন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আগে উদ্যোক্তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দেখতে ‘বিআইটিএমএ’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বিদেশে যেতে হতো। এখন সেই একই মানের বিশ্বসেরা প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের ঘরের দুয়ারে চলে এসেছে, যা দেশের পোশাক শিল্পের আধুনিকায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিটিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, আসন্ন মেলাটি আয়োজনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মেলার জন্য একটি যথোপযুক্ত নাম নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রচারণার সুবিধার্থে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এমএম