বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল নজরদারি, বেনামি ঋণ বিতরণ এবং বকেয়া ঋণ সময়মতো আদায় না হওয়ায় কৃষি খাতে ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরে কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা বেড়েছে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতে কৃষি খাতে বিপুল পরিমাণ বেনামি ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণের বড় অংশ এখন আর ফেরত আসছে না, ফলে সেগুলো ধীরে ধীরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়, যা প্রায় ২৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

ইসলামী ব্যাংকগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে খেলাপি ঋণ ২৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকায় উঠেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হলেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৯০ কোটি টাকা থেকে ৭২০ কোটি টাকায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পাশাপাশি বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের মার্চে যেখানে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বকেয়া ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই সময়ে ঋণ আদায় কিছুটা বাড়লেও তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে আদায় না হওয়া ঋণের বড় অংশ ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা কৃষি খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

এস