শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশ বিক্রেতারা নেই বললেই চলে। কাচকি, ট্যাংরা, চিংড়ি, বাতাসি, পাবদা—সব মাছের দাম বেড়েছে। কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০–৬০০ টাকায়, ট্যাংরা ও চিংড়ি ৮০০–১,০০০ টাকায়। চাষের রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০–৪৫০ টাকায়, পাবদা ৪০০–৪৫০ টাকায়, আর পাঙাশ ২২০–২৫০ টাকায়।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এতে জেলেরা নদীতে অন্য মাছও ধরতে পারছেন না, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে গেছে।

রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা হান্নান মিয়া বলেন, ইলিশ না থাকায় এখন সবাই রুই, ট্যাংরা বা পাবদা মাছ কিনছেন। তাই পাইকারিতে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে বাড়তি দামের কোনো যুক্তি নেই। ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহেই মাছের দাম বাড়ছে। মাঝারি আকারের মাছ কিনতেও এখন হাজার টাকা খরচ হয়।

গৃহিণী রত্না বেগম বলেন, আগে এক কেজি পাবদা কিনতাম, এখন আধা কেজি নিয়েই ফিরতে হয়। মাছ কেনা এখন যেন বিলাসিতা। মাছ ও মাংসের দাম বাড়ায় অনেকে এখন বিকল্প হিসেবে ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে লাল ডিম ডজনপ্রতি ১৪০–১৪৫ টাকা, সাদা ডিম ১৩৫ টাকা, আর প্যাকেটজাত ডিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা আমানত উল্লাহ জানান, চাহিদা বেড়েছে, তবে সরবরাহ ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা কমবে। মাছের পাশাপাশি মুরগির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০–১৫ টাকা। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬৫–১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ২৯০–৩০০ টাকায় এবং দেশি মুরগি ৫৫০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী বাজারের ক্রেতা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ১৮০–১৯০ টাকায় উঠেছে—এটা অন্যায়। তবে বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, খামারের ফিড, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি দামও বাড়ছে। ফলে খুচরা পর্যায়েও দাম বেশি।

রাজধানীতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০–৮০০ টাকায়, খাসি ১,১০০–১,২০০ টাকায়, আর বকরি ৯০০–১,০০০ টাকায়। দাম আগের মতো থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এগুলো এখন বিলাসদ্রব্যের পর্যায়ে পড়েছে।

চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ইলিশ তো নেই, অন্য মাছের দামও নাগালের বাইরে। গরুর মাংস খাওয়াও এখন স্বপ্ন। সংসারের বাজেট একেবারে এলোমেলো হয়ে গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে বিকল্প মাছের দাম বেড়েছে, আর গরু-মুরগির বাজারও ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই বাজারে টিকে থাকা যাবে কেমন করে?

এনএইচ