কী বলছে আইএমএফ-এর পরিসংখ্যান?
আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৯১১ ডলারে। অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। যদিও অংকের বিচারে এই পার্থক্য মাত্র ১০০ ডলারের কাছাকাছি, তবে ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই পরিবর্তনকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড় হলেও মাথাপিছু আয়ের সূচকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখেছে।
কেন এই উত্থান-পতন?
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারিগর হলো মুদ্রার বিনিময় হার (Exchange Rate)। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা এবং রুপির মানের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণেই এই সূচকটি বারবার পরিবর্তিত হয়।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: এর আগেও ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর বাংলাদেশ এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে।
২০২৫-এর ধাক্কা: গত বছর (২০২৫) বাংলাদেশি টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ভারত সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুনরায় চালকের আসনে ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিপিপি (PPP) বা ক্রয়ক্ষমতার ভিন্ন চিত্র:
বর্তমান ডলার মূল্যে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ‘ক্রয়ক্ষমতার সমতা’ বা পিপিপি (Purchasing Power Parity) ভিত্তিতে ভারত এখনও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। আইএমএফ-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের (১০ হাজার ২৭১ ডলার) চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান বেড়ে ২৪ শতাংশ হতে পারে।
ভবিষ্যৎ কী?
আইএমএফ-এর দীর্ঘমেয়াদী প্রাক্কলন বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও ২০২৭ সালে ভারত পুনরায় শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মুদ্রার বিনিময় হারের অস্থিরতা এই সমীকরণকে যেকোনো সময় বদলে দিতে পারে।
পরিশেষে, মাথাপিছু জিডিপির এই লড়াই দুই দেশের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকেই ফুটিয়ে তুলছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এমএম