শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও তার আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

ঢাকার আশপাশ থেকে কিছু শাকসবজি আসলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাজা লঙ্কা, বেগুন, কুমড়ো, পটল, ধনিয়া ও শিমের মতো শাকসবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বিক্রেতাদের মতে, এখন শাকসবজির দাম সাধারণের তুলনায় প্রায় ২০–৩০ শতাংশ বেশি। যেমন, কুমড়োর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০–৯০ টাকা, লঙ্কা ১৫০–১৮০ টাকা, পটল ১২০–১৪০ টাকা এবং ধনিয়া ৭০–৮০ টাকা প্রতি বাণ্ডেল।

মাছের সরবরাহও সীমিত। স্থানীয় মাছের দোকানগুলোর ক্রেতাদের অভিযোগ, রুই ও কাতলা মাছের কেজি দাম বেড়ে ৪০০–৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ৩০০–৩৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০–১২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও শাকসবজি বেশি থাকায় অনেকে ব্রয়লার মুরগি ও মাংসের দিকে ঝুঁকছেন। গড়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০–২০০ টাকা, এবং গরুর মাংস ৮০০–৮৫০ টাকা কেজি।

ঢাকার ডেমরা এলাকার এক ক্রেতা রায়হান আলী জানান, আমি ঢাকায় থাকায় ভোট দিতে গ্রামে যাইনি। কিন্তু দোকানপাট বন্ধ এবং শাকসবজির দাম বেশি থাকায় খুবই বেকায়দায় পড়েছি। সাধারণ বাজারের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

গার্মেন্টস শ্রমিক রবিউল বলেন, আমি ব্যাচেলর। বাজারে সবকিছুরই সংকট এবং দামও বেড়েছে। অনেক হোটেলও বন্ধ। খুবই ঝামেলা হচ্ছে।

এক বিক্রেতা জানান, আজ সরবরাহ কম। চার দিনের ছুটিতে পরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকার বাজারে কাঁচামাল পৌঁছায়নি। তাই দাম বেড়ে গেছে। তবে বিক্রি কম থাকায় আমরা বেশি লাভও পাচ্ছি না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চার দিনের ছুটির কারণে কাঁচামাল ঢাকার বাজারে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের সরবরাহ কম এবং দাম চড়া। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কম থাকায় কেনাবেচা সীমিত।

নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানীর সাধারণ মানুষ সরবরাহের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু দিন সময় লাগতে পারে।

এনএইচ