ঐতিহ্যগতভাবে সোনা বা স্বর্ণকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ (Safe Haven) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা এর ওপর আস্থা রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার শঙ্কা সোনার দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়া মার্কিন শেয়ারবাজারের কিছু খাত অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। যে কোনো সময় বাজার ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার থেকে মূলধন তুলে সোনা ও রুপার মতো তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করছেন।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এবং বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে সারা বছর ধরেই সোনায় বিনিয়োগ বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি।
সম্প্রতি ফ্রান্সে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি করে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।
বুধবার সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪,০০৬.৬৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, রুপার দামও রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে—যা বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন সরকারের আংশিক অচলাবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চাকরি বাজার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ স্থগিত হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষে সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই তথ্যের ঘাটতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সূত্র: এএফপি
এনএইচ