সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সফরে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
দেশের শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়ন জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। ওশি ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট হেড মো. আলম হোসেন পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করেন।
কারখানায় প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মো. নাসরুল্লাহসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের প্রথম ‘এলডব্লিউজি গোল্ড রেটেড’ সুবিধাসংবলিত এপেক্স ট্যানারি ইউনিট পরিদর্শন করেন। পরে তারা জুতা উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন।
এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এপেক্সের দক্ষ জনবল, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশ্বমানের ডিজাইন সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় ইউরোপীয় প্রযুক্তির প্রয়োগ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরিদর্শন শেষে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, “পণ্যের মান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত কতদূর এগোতে পারে, তা ইউরোপীয় অংশীদারদের সামনে তুলে ধরতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সফর বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থারই প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এপেক্স ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাত বিশেষ করে চামড়া ও জুতা শিল্পে ইতিবাচক অগ্রগতি দৃশ্যমান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এপেক্সের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় পরিচালনা পর্ষদ এবং বিশ্বমানের উৎপাদন ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
এমএম