গত শুক্রবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে খাতভিত্তিক চূড়ান্ত বরাদ্দ নির্ধারণের আগে আগামী ১৬ মে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উন্নয়ন বাজেট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রস্তুত করা নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান আসবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৩ শতাংশ। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলো নিজেদের তহবিল থেকে আরও ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক প্রস্তাবিত বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা খাত। এ খাতে প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পাঁচটি খাতেই মোট এডিপির প্রায় ৬২ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য থেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।