তবে জালাল প্রেসের মালিক জালাল দাবি করেছেন, তিনি মোটেও ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপাননি। তার ভাষ্য, ‘আমি ৮৬ হাজারের মতো ব্যালট ছেপেছি। কিছু কমবেশি হতে পারে, তবে ৮৮ হাজারের বেশি নয়। আমাকে যত কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটির চেয়ে বেশি ব্যালট ছাপানো সম্ভব নয়। এর মধ্যে আবার কিছু ওয়েস্টেজও থাকে।’
জালাল আরও জানান, তারা আসলে রিম হিসেবে কাগজের হিসাব করেন, আলাদা করে ব্যালট গোনেন না। তিনি বলেন, ‘কোনো কাগজ নষ্ট না হলে প্রতি রিমে প্রায় ৪ হাজার ব্যালট হয়।’
টেলিভিশন প্রতিবেদকের প্রশ্নে ৯৬ হাজার ব্যালট ছাপানোর কথা স্বীকার করেছিলেন কেন?—এমন প্রশ্নে জালাল বলেন, ‘ভিডিওতে দেখবেন, ওই রিপোর্টার একটি হিসাব বলে আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ৯৬ হাজার ব্যালট? তখন আমি বলেছি হ্যাঁ, ওরকমই হবে। কিন্তু সেটা আমি নিজে হিসাব করে বলিনি। কাজের চাপ আর সাংবাদিকের জেরার মধ্যে আমি খেয়াল হারিয়ে ফেলেছিলাম।’
জানা যায়, ব্যালট ছাপানোর জন্য বাদশা নামের এক কাগজ ব্যবসায়ী থেকে সরবরাহকারী ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রথমে ২২ রিম কাগজ (১১,০০০ কপি) সংগ্রহ করেন, যা প্রথমে মক্কা কাটিং হাউসে আসে। এই কাগজকে চার ভাগে ভাগ করে জালাল প্রেসে ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়। ছাপানো ব্যালটগুলো পরে মক্কা কাটিং হাউসে ফেরত আনা হয়, যেখানে প্রতিটি কাগজকে দুই ভাগে কেটে চূড়ান্ত ব্যালট তৈরি করা হয় এবং শেষ ধাপে তা সরবরাহকারী ফেরদৌস ওয়াহিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মক্কা কাটিং হাউসের মালিক আলিফ জানান, বাদশার দোকান থেকে পাওয়া ২২ রিম কাগজ দিয়ে ৮৮ হাজার ব্যালট হয়। তবে ছাপানো বা কাটিংয়ের সময় বিভিন্ন কারণে কিছু ব্যালট নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। এজন্য অর্ডারের সময় অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হয়।
আলিফ বলেন, ‘মেশিনে ডিস্টার্ব, কালির সমস্যা, কাটিংয়ের সময় ছিঁড়ে যাওয়া বা কালি লেগে যাওয়া—এসব কারণে ব্যালট নষ্ট হতে পারে। তাই ঠিক কত ব্যালট টিকে থাকে, সেটা আমরা বলতে পারি না। সেটা বলতে পারবেন সাপ্লায়ার, যিনি গুনে বুঝিয়ে দেন।’
আলিফ আরও বলেন, ‘মিডিয়াতে জালাল প্রেসের মালিকের ৯৬ হাজার ব্যালট বলার বিষয়টা আসলে হঠাৎ প্রশ্নে বলে ফেলা। সে জানে না, জানার কথাও না। কারণ এতগুলো ব্যালট গোনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা শুধু রিম বা কাগজের হিসেবে কাজ করি।’