তিনি বলেছেন, প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে এনসিটিবি কার্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা সচিব।

তিনি বলেন, “২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

শিক্ষা সচিব আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত জাতীয় জীবনে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা বিকৃতিহীনভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে।

ইতিহাস বইয়ের নতুন সংযোজন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমান-এর ঐতিহাসিক অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাধ্যমিকের সব শ্রেণিতে ৭ নভেম্বরের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’-এর প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া-এর ভূমিকা প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা সচিব বলেন, মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বীরত্বপূর্ণ অবদানও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা, বই নির্বাচন এবং কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কোনো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা দ্রুত সমাধান করবে।

পাঠ্যবই মুদ্রণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আবদুল খালেক বলেন, অতীতে যারা নিম্নমানের বই সরবরাহ করেছে বা শেষ মুহূর্তে অনিয়মের চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে।

সভায় এনসিটিবির চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস