জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম সিরাজুল ইসলাম খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিঊন)।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী এবং গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
জানা যায়, ড. এ কে এম সিরাজুল ইসলাম খান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০০৬ থেকে ২৬ জুলাই, ২০০৮ তারিখ পর্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন (১৯৯৭-৯৯), অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান (১৯৮৬-১৯৮৯), বাংলাদেশ অনুজীব বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেল অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড. এ কে এম সিরাজুল ইসলাম খানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক দৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র রির্পোটার এম. মামুন হেসেন বলেন, “তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, আর আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রথম (প্রতিষ্ঠাতাকালীন) সাধারণ সম্পাদক। তাঁর সঙ্গে ছাত্র ও সাংবাদিক এবং শিক্ষকদের সম্পর্ক আন্তরিকতায় ও ভালোবাসায় পূর্ণ ছিলো। তাঁর উদ্যমী, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি ছিলো প্রখর। সত্যিকারভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ হিসেবে বিকাশে কাজ করতে চেয়েছেন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তিনি একজন সফল উপাচার্য ছিলেন। তাঁর গবেষণা ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তিনি তার মেয়াদ শেষ করার আগেই উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের মাঠে অনুষ্ঠিত মরহুমে নামাজে জানাযায় জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ীতে (বিক্রমপুর) দাফন করা হবে বলে জানা যায়।
ফারুক/এমবি





